আশীর্বাদ (The blessing of Human)
সূর্য কে ডাকিয়া বলেছিলাম একদিন,
এত আলোয় যদি আলকিত হে দুনিয়া, তবে কেন ঘোর অন্ধ মোর মন?
শ্যাম বর্ণ এই জগত সংসারে আমিই কি একজন?
উত্তরে কহিল অরুণ,
তুমি তো সাধিছিলে চক্ষু মেলিয়া রাখিবে দৃষ্টিকোণ,
চক্ষু থাকিতে দেখনি কিছুই,বন্ধ রাখিছিলে মন।
ধরণীর সর্ব বিশাল নদীটি পড়িল পথের পাড়ে,
কহিলাম তারে অথৈ জলের রহস্য বিষ্ময়ে,
হাসি হাসি মুখে বলিয়া উঠিল,
তোমাদের সব অশ্রুর জল জমিয়াছে মোর তীরে,
পাইয়াও কিছু পাওনি তুমি,কাঁদিছ দিবা রাতে।
হাঁটিতে হাঁটিতে থামিলাম এক বটবৃক্ষের নীচে,
শত-সহস্র বছর ধরিয়া আছে সে উচ্চ শীরে।
বলিলাম নীচু স্বরে, বৃক্ষ তুমি দিয়াছ ছায়া, পেয়েছি শীতল মায়া,
তবু কেন তোমায় হারাতে বসেছে, সবুজ স্বর্ণলতা?
উত্তরে কহিল তরু,
তোমাদের সব ঘর সংসার গড়িয়া দিয়াছি কাঠে,
সবুজের বুকে তাই চীর ধরেছে কুড়ালের কাটা ঘাতে।
এতটুকু বিশ্রাম নিয়ে,
ধীরে ধীরে সব পাড়ি দিয়াছি সাত সমুদ্রের পথ,
চোখের সামিনে ভাসিয়া আসিলো এক সুবিশাল পর্বত।
পাহাড়ের চূড়ায় উঠিয়া আমি দেখিলাম জগত সারা,
অচল হইয়া দাঁড়িয়া আছ কেন ওহে পর্বত মালা?
কহিল শৈলী,
মৃত্যিকার স্তুপের গড়িয়া উঠেছি, সুউচ্চ মোর শির,
মাটির দেহতে গড়া তোমারাও,
হয়েছো কি মাংসাশী বীর?
পালা প্রশ্নের উত্তর আমি কিছুই দিবার না পাই,
মানুষে মানুষে রেষারেষি সব দেখিছে বিশ্বকায়।
চলিতে চলিতে ক্লান্ত হইয়া লুটাইনু ধূলোর পানে,
ধূলাও যেন তুচ্ছ করে আপন মরণ গায়ে।
বাতাসের সাথে মিশিয়া রয়েছে বাঁচিয়া থাকিবার আশা,
ধুকে ধুকে তাই প্রশ্ন করিলাম, দিলে কেন মোরে সাজা?
কহিলো পবন,
ধীরে ধীর সব কমিয়া আসিছে তোমাদের কালো ধূমে,
সুধীমহল আজো রইয়াছে তার আপন নিগূঢ় ঘুমে।
উত্তাল সমুদ্দুর, ঘোলা আকাশ,উষ্ণ প্রতিবেশ,
সবুজে ভরা মাটিতে লাগে, রক্ত লালের ক্লেশ।
এসব নিয়ে ভেবো নাকো আর, কিবা হবে সংবাদ?
জগত জুড়িয়া লুটাইয়া আছে, তোমাদেরই আশীর্বাদ।

No comments